সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৪

আলু ভর্তা বানানো খুবই সহজ। পছন্দ করে না এমন লোক খুবই নগন্য

আজ আমি আপনাদের আলু ভর্তা বানানো শেখাবো। যারা বলবেন, আলু ভর্তা বানানো আবার শেখা লাগে নাকি? খোসা ছড়ানো সিদ্ধ আলু, পেঁয়াজ কুচি, মরিচ কুচি, লবণ ও সরিষার তেল এক সাথে চটকিয়ে নিলেই তো আলু ভর্তা হয়ে গেল।  যারা এমন বলবেন, এ লেখা তাদের জন্য নয়। কিন্তু যারা মনে করবেন, আলু ভর্তা বানিয়ে আপনার প্রিয় জনকে খাওয়ায়ে সুনাম কুড়াবেন; এ লেখা তাদের জন্য। চলুন কিভাবে চমৎকার আলু ভর্তা বানাবেন তা নিয়ে আলোচনা করি।

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
১. মাঝারি আকারের কিছু গোল আলুঃ আমি দু'ধরনের গোল আলুর কথা বলব। এক. এক প্রকারের গোল আলু আছে যা দিয়ে ভর্তা করলে ভর্তাটি বালি বালি গোছের মনে হবে। দুই. আরেক প্রকারের গোল আলু আছে যা দিয়ে ভর্তা করলে ভর্তাটি বেশ আঠালো বলে মনে হবে। আমি আঠালো গোছের গোল আলু দিয়ে আলু ভর্তা বানানোর জন্য অনুরোধ করবো। কেননা এ ধরনের গোল আলু দিয়ে বানানো আলু ভর্তা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। অবশ্য কিছু কিছু শিশুরা বালি বালি গোছের গোল আলু দিয়ে বানানো আলু ভর্তা বেশি পছন্দ করে। তাদের জন্য মায়েরা বালি বালি গোছের গোল আলু দিয়ে আলু ভর্তা বানাতে পারেন। মাঝারি আকারের গোল আলু হলে ভালো হয়। কেননা বড় আকারের গোল আলুর মাঝে অনেক সময় কালো কালো স্পর্ট থাকে। এ সমস্যা দূর করার জন্য নতুন গোল আলু নিলে ভালো ফল পাবেন। গোল আলু সিদ্ধ করার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুবেন না। এমনকি খোসা ছড়ানোর পর ও কোনরূপ পানি দিয়ে ধুবেন না। হাত পরিষ্কার করা দরকার হলে আলাদাভাবে পানিতে হাত ধুয়ে নিবেন।

২. মাঝারি আকারের কয়েকটি পেঁয়াজঃ মাঝারি আকারের কয়েকটি পেঁয়াজ নিবেন। এ পেঁয়াজ আবার বাজারে দু'রকমের পাওয়া যায়। এক. গুদামজাতযোগ্য পেঁয়াজ। রঙ লালচে বর্ণের। এ ধরনের পেঁয়াজ বাজারে সব সময় পাওয়া যায়। দু'ই. কাচাঁ পেঁয়াজ। যেটা শীতকালে বাজারে পাওয়া যায়। এ পেঁয়াজ গুদামজাত করে না। দু'ধরনের এ পেঁয়াজের যে কোনটি আপনি ব্যবহার করতে পারেন। তবে শীতকালে আলুভর্তা করলে আপনি কাঁচা পেঁয়াজ ব্যবহার করবেন। তাহলে আলু ভর্তার মাঝে নতুনত্ব পাবেন। এরপর প্রয়োজনমত পেঁয়াজ কুচি করে নিবেন।মনে রাখবেন পেঁয়াজ কুচিগুলো যেনো শৈল্পিক হয়। অর্থাৎ ভর্তা বান্ধব হয়। কাঁচা পেঁয়াজের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখবেন,  পেঁয়াজ কুচিগুলোর মাঝে যেন ফুলকার গোড়া না যায়। কেননা, ফুলকার গোড়া খাওয়ার সময় মুখে পড়লে ভর্তার তৃপ্তি নস্ট হতে পারে।

৩. কাঁচা  মরিচঃ যে সকল কাঁচা  মরিচের বয়স মাঝারি সে সকল কাঁচা মরিচ নির্বাচন করুন এবং তা যথাসম্ভব কুচি করে নিন। যে সকল কাঁচা মরিচ অতি পুষ্টু তা নির্বাচন থেকে বিরত থাকুন। অতি পুষ্টু মরিচকে আমি দাঁতাল মরিচ বলি। কেননা এ জাতীয় কাঁচা মরিচের বীজ খুব মজবুত হয়। অত্যন্ত ঝাল লাগে। আবার ভর্তাকে দেখতে বেমানান করে তোলে। এ ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য খাওয়ার সময় অনেককে মরিচের টুকরা এবং মরিচের বীজ বাছতেও দেখা যায়। আর যেটা অত্যন্ত অস্বস্তিকর লাগে। অনেকে আলু ভর্তা করার জন্য তেলে ভাজা শুকনো মরিচ ব্যবহার করেন। এটা স্বাস্থ্যকর নয় বলে আমি এটা ব্যবহারের জন্য উপদেশ দিব না। এটা কিন্তু হজমেও ব্যাঘাত ঘটায়। তবে কারো এটা অতি পছন্দ হলে ব্যবহার করতে পারেন। আমি নিষেধ করব না। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যে মরিচ ইচ্ছা আপনি তা ব্যবহার করতে পারেন।

৪. লবণঃ ভাল মানের প্যাকেটজাত করা ঝরঝরা লবণ ব্যবহার করবেন। বিট লবণ ব্যবহার করার দরকার নাই।

৫. সরিষার তেলঃ  ঘানিতে ভাঙানো খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করুন। ইচ্ছে হলে খাঁটি গাওয়া ঘিও ব্যবহার করতে পারেন।

কার্যপদ্ধতিঃ কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ কুচি একত্রে তেলে ভেজে নিন। তারপর এর সাথে পরিমানমত লবণ মিশিয়ে সিদ্ধ আলুগুলো চটকিয়ে নিন। এরপর ছোট ছোট মন্ড করে গরম গরম পরিবেশন করুন।

শেষ কথাঃ ইচ্ছে হলে আপনারা আলু ভর্তায় সামান্য পরিমান ভাজা পাঁচ ফড়ং এর গুড়াও ব্যবহার করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Text Widget