প্রাইভেট পড়ানোঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চলাকালীন সময়ের আগে কিংবা পরে অর্থ প্রাপ্তির শর্তে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করানোকে প্রাইভেট পড়ানো বলে। প্রাইভেট পড়ানোটা নিয়ে আমরা যাই বলি না কেনো এর পেছনে কিন্তু অনেক করুন কাহিনিও আছে।
প্রাইভেট পড়ানোর উপকারিতাঃ
১. যিনি প্রাইভেট পড়ান ( শিক্ষক/ ছাত্র/ ছাত্রী/ প্রাইভেট টিউটর ) তিনি এর দ্বারা একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ পান। যার দ্বারা তিনি তার জীবন মানকে উন্নত করতে পারে।
২. অনেক দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা এ অর্থ দ্বারা ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেন। কেউবা পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি বাড়িতে/ সংসারেও কিছু অর্থ দেন।
৩. কেউবা ভালো চাকুরি না পেয়ে বা অন্য কোনো পেশাতে সাইন করতে না পেরে প্রাইভেট পড়ানোকে প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নেন।
৪. অনেক শিক্ষিত বিধবা বোনেরা আছে যারা সংসার পরিচালনা ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য প্রাইভেট পড়ান।
৫. অনেক দরিদ্র শিক্ষক আছেন যারা সামান্য বেতনে বড় সংসার পরিচালনা করতে না পেরে প্রাইভেট পড়ান।
৬. অনেক শিক্ষিত প্রতিবন্ধী আছে যারা প্রাইভেট পড়িয়ে অর্থ উপার্জন করে নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছেন।
৭. অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা পড়াশোনা শেষে ভালো চাকুরী খোঁজার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়ান। এতে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি পড়াশোনার চর্চাটাও থেকে যায়।
৮. একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক
নিয়োগ করা হয় প্রায় ৩০ বছরের জন্য। নিয়োগকৃত এ সকল শিক্ষকের মধ্যে কিছু সংখ্যক শিক্ষক
সময়ের সাথে পারপার্শ্বিকতার সাপেক্ষে মেধাকে যুগোপযোগী করে পরিবর্তিত করতে পারেন না;
যেভাবে পাঠ্যক্রম পরিবর্তিত হয়। সেক্ষেত্রে যুগোপযোগী পাঠ উক্ত শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের
বোঝাতে ব্যর্থ হন। সেক্ষেত্রে সে পাঠ বোঝার জন্য শিক্ষার্থীরা যুগোপযোগী প্রাইভেট শিক্ষক/
সিনিয়র ছাত্র-ছাত্রী/ টিউটরের কাছে গেলে অবশ্যই উপকৃত হয়।
প্রাইভেট পড়ানোর অপকারিতাঃ
১. মেয়েরা গৃহ শিক্ষক হিসেবে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে নিজের সম্ভ্রম হারাতে পারেন।
২. শিক্ষকগণ প্রাইভেট পড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার ফলে ক্লাসে তার পাঠ উপাস্থাপনে কিছুটা এনার্জি ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
৩. অনেক কুশিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রীদের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
৪. অনেক ছাত্র-ছাত্রী যে জন্যই প্রাইভেট পড়াক না কেন তারা কিন্তু প্রাইভেট পড়িয়ে তাদের অনেক মুল্যবান সময় নস্ট করে। যা তাদের মূল পড়াশোনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
৫. অনেক হাউজ টিউটর অভিভাবিকাদের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কখনো বা বিয়ে করে নিয়ে পালায়। যা ওই পরিবারের জন্য ক্ষতির কারণ।
৬. বিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষক প্রাইভেট পড়ান সে সকল শিক্ষকের সাথে তার প্রাইভেট স্টুডেন্টদের একটা সুসম্পর্ক তৈরি হয়; পাশাপাশি যে সকল স্টুডেন্টরা প্রাইভেট পড়ে না তাদের সাথে ও ঐ শিক্ষকের মাঝে সম্পর্কের একটা ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
৭. অনেক সময় অনেক কুশিক্ষক নিজের কাছে প্রাইভেট পড়া স্টুডেন্টদের বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় বেশি নম্বর দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি যে সকল স্টুডেন্টরা ঐ শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে না তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় কম নম্বর দিয়ে থাকেন; যা নীতি বহির্ভূত।
৮. অনেক ছাত্র/ ছাত্রী আছে যারা প্রাইভেট পড়ার নাম করে প্রাইভেট
পড়তে না গিয়ে ডেটিং এ যায়; যা ঐ ছাত্র/ ছাত্রীর পড়াশোনার জন্য অর্থাৎ ভবিষ্যতের জন্য
ক্ষতিকর।
৯. আমরা অনেকেই মনে করি বিশেষ কিছু/
বেশি কিছু ভালোভাবে শেখার জন্য শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়তে যায়। একথা মিথ্যা নয়। তবে
একথাও সত্য যে, প্রাইভেট পড়াটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাজেশন নির্ভর। তাই শিক্ষার্থীরা মূল
পাঠ্য বইয়ের অনেক খুটিনাটি (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয় পড়া থেকে বিরত থাকে। যার ফলে উক্ত বিষয়
সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবগত হতে পারে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন